নিচের কোনটি ম্যালেরিয়া পরজীবীর ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনি সংশ্লিষ্ট?

Updated: 1 year ago
  • স্পোরোজয়েট
  • ক্রিপ্টোমেরোজয়েট
  • ক্রিপ্টোজয়েট
  • ট্রফোজয়েট
1.4k
ব্যাখ্যাঃ

ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রে, যখন মশা থেকে স্পোরোজয়েট (sporozoite) মানবদেহে প্রবেশ করে, তখন প্রথমে তারা যকৃৎ কোষে (liver cells) আক্রমণ করে এবং সেখানে অযৌন প্রজনন ঘটায় (এক্সো-ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনি বা হেপাটিক সাইজোগনি)। যকৃৎ কোষ থেকে মুক্ত হয়ে মেরোজয়েট (merozoite) রক্তে আসে এবং লোহিত রক্তকণিকা (red blood cells) আক্রমণ করে।

লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে মেরোজয়েটগুলো প্রথমে ট্রফোজয়েট (trophozoite) নামক দশা গঠন করে। ট্রফোজয়েটগুলো কোষের হিমোগ্লোবিন খেয়ে বড় হয় এবং পরে সাইজন্ট (schizont) দশায় পরিণত হয়। সাইজন্ট দশায় পরজীবী অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অসংখ্য নতুন মেরোজয়েট তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটিই হলো ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (erythrocytic schizogony)। লোহিত রক্তকণিকা ফেটে এই মেরোজয়েটগুলো রক্তরসে মুক্ত হয় এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রান্ত করে।

        
  • ট্রফোজয়েট (Trophozoite): এটি ম্যালেরিয়া পরজীবীর লোহিত রক্তকণিকার ভেতরের প্রথম বৃদ্ধির দশা, যা পরবর্তীতে সাইজন্ট ও ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনির মাধ্যমে অসংখ্য মেরোজয়েট তৈরি করে। তাই এটি সরাসরি ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনির সাথে সংশ্লিষ্ট।
  •     
  • স্পোরোজয়েট (Sporozoite): এটি মশার লালাগ্রন্থি থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং যকৃৎ কোষে আক্রমণ করে, যা এক্সো-ইরাইথ্রোসাইটিক চক্রের অংশ।
  •     
  • ক্রিপ্টোজয়েট (Cryptozoite) ও ক্রিপ্টোমেরোজয়েট (Cryptomerozoite): এই দশাগুলো যকৃৎ কোষের প্রজনন (হেপাটিক সাইজোগনি) এবং যকৃৎ থেকে মুক্ত হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। ক্রিপ্টোজয়েট হলো যকৃতের ভেতরের সাইজন্ট দশা, এবং ক্রিপ্টোমেরোজয়েট হলো যকৃত থেকে মুক্ত হওয়া মেরোজয়েট, যা লোহিত রক্তকণিকা আক্রমণ করে। যদিও ক্রিপ্টোমেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে, কিন্তু লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে বৃদ্ধির যে দশাটি সাইজোগনির সূচনা করে, সেটি হলো ট্রফোজয়েট।

অতএব, ম্যালেরিয়া পরজীবীর ইরাইথ্রোসাইটিক সাইজোগনি প্রক্রিয়ার মূল দশাগুলোর মধ্যে ট্রফোজয়েট সরাসরি এর সাথে সংশ্লিষ্ট।

Satt AI
Satt AI
1 week ago

ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ (Transmission of Malaria): Plasmodium-এর পোষক হিসেবে প্রায় দু'শ প্রজাতির Anopheles রয়েছে। স্ত্রী Anopheles-ই ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ানোর একমাত্র মাধ্যম। রোগ বিস্তারের মাধ্যমে মহামারী সৃষ্টি করার জন্য ছয় প্রজাতির Anopheles মশকীকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এরা হলো Anopheles culicifacies. A stephensi, A. fluviatilis, A. minimus, A.
dirus এবং A sundaicus মশকী প্রজাতিগুলো যখন ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে দংশন করে তখন রক্তের মাধ্যমে পরজীবীর বিভিন্ন ধাপ ওদের গ্রুপে প্রবেশ করে। এভাবে আক্রান্ত মশকী কোনো সুস্থ মানুষকে দংশন করলে পরজীবীগুলো মশকীর লালারসের মাধ্যমে মানবদেহে বা অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণিদেহে প্রবেশ করে ।মানুষ হচ্ছে চার প্রজাতির ম্যালেরিয়ার পরজীবীর একমাত্র প্রাকৃতিক পোষক। ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত মানুষই হলৌ ম্যালেরিয়া সংক্রমণের উৎস। তাই বলে সকল ম্যালেরিয়া রোগীই কিন্তু সংক্রমণের ভান্ডার নয়। যে রোগীর রক্তে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিণত, জীবন্ত ও উৎকৃষ্ট মানের গ্যামেটাসাইট থাকে সে ব্যক্তিই সংক্রমণের প্রকৃত উৎস । প্রান্তীয় রক্ত সংবহনে গ্যামেটোসাইট যদি খুব কম থাকে বা অপরিণত থাকে কিংবা স্ত্রী পুরুষ গ্যামেটোসাইটের অনুপাতে ব্যাপক বৈষম্য থাকে তাহলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনাও কমে যায়। মশকী যখন দংশন করে তখন Pvivax এর অন্ততঃ ৬টি এবং P falciprarum এর ১২টি গ্যামেটোসাইট মশকীর দেহে প্রবেশ করতে হয়। যাদের রক্তে পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্যামেগোসাইট থাকে তাদের সক্রিয় (active) এবং যাদের রক্তে গ্যামেটোসাইটগুলো কোনো এক সময় কার্যকর হচ্ছে এমন অবস্থায় থাকে, তাদের বাহক বলে ।  চিকিৎসারত কিংবা স্বল্প চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীরা সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। P falciparum-এর গ্যামেটোসাইট রক্তে ৩০-৬০ দিন বা তারও বেশি, ১২০ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারে। P. vivax এর গ্যামেটোসাইট লোহিত রক্তকণিকার ভেতর ৭ দিনের বেশি বাঁচে না। কাজেই ঐ সময়ের মধ্যে মশকী রক্ত খেলে ম্যালেরিয়া ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। এভাবে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে এবং ম্যালেরিয়া জন-জনান্তরে ছড়িয়ে পড়ে।

কেবল Anopheles মশকীই জীবাণু বহন করে কেন ? ম্যালেরিয়া রোগের বাহক হিসেবে একমাত্র Anopheles গণের বিভিন্ন প্রজাতির মশকীই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কারণ অন্য প্রজাতির মশকীদেহে এমন বিষাক্ত উপাদান থাকে যা Plagsmodium-এর জন্য ধ্বংসাত্মক। ঐসব মশকী প্রজাতির মধ্যান্ত্রের প্রচন্ড ট্রিপসিন-সদৃশ কর্মকান্ড ঘটতে দেখা যায় যা Plaasmodium-এর উওকিনেটের পরিস্ফুটনকে রূদ্ধ করে দেয়। দংশনের সময়কাল, পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা ও মশকী-দেহে স্পোরোগোনি ঘটানোর সমস্ত উপাদান Plaasmodium-এর অনুকূলে থাকায় কেবল Anopheles- মশকীর দেহেই জীবাণুর পরিস্ফুটন ও বহন সম্পন্ন হয়।

Related Question

View All
  • হিমোজয়েন
  • পাইরোজেন
  • সাফনার্স কণা
  • হিমোলাইসিন
483
  • হেপাটিক সাইজোগনি
  • এরিথ্রোসাইটিক সাইজোনি
  • গ্যামিটোগনি
  • স্পোরোগনি
350
Updated: 11 months ago
  • ট্রোফোজয়েট
  • ক্রিপ্টোজয়েট
  • মেরোজয়েট
  • উওসিস্ট
216
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই